
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে বোরিং সাবজেক্টের লিস্টের মধ্যে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় অন্যতম। এতো সাল মনে রাখা কিংবা এতো বড় সিলেবাস শেষ করা প্রায়শ-ই দুঃসহ হয়ে উঠে। তবে এই সাবজেক্টটি-ই পড়তে কৌশলী হলে- সুফল ভোগ করতে পারবে এডমিশন টেস্টে এবং সরকারি চাকরির প্রস্তুতিতে।
একজন আদর্শ শিক্ষার্থীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বৈশিষ্ট্য হলো- কোনো বই পড়ার আগে ঘাটাঘাটি করে লক্ষ্য স্থির করা- এই বইটি পড়ে কি কি শেখা যাবে এবং শিক্ষালব্ধ জ্ঞান কোথায় ব্যবহার করা যাবে। ঠিক একই ভাবে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটি শুরু করার আগে জানতে হবে- কোন উপায়ে বইটি পড়লে শিক্ষণ যাত্রা হবে আনন্দদায়ক এবং এর ব্যবহারে কি কি অর্জন করা সম্ভবপরও হবে।
আপাতদৃষ্টিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় একটি নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বই এবং কোনো রকম সিলেবাস শেষ করে এ+ তুলতে পারলেই যাত্রাশেষ মনে হইলেও তা কিন্তু নয়। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় থাকছে সাধারণ জ্ঞান ও মানবিক গুণাবলীতে ১৫ নম্বর, দেশসেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বিভাগ পরিবর্তন ইউনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে থাকছে ১৫-৩০ নম্বর। আর এই বই সঠিক ভাবে পড়ে তুমিও এগিয়ে যেতে পারো ভর্তিযুদ্ধে এবং নিশ্চিত করতে পারো ৬০-৭০% নম্বর সাধারণ জ্ঞানে। আবার এই একই বই অধ্যয়ন তোমাকে ভিত্তি গড়ে দিবে চাকরির পরীক্ষার সাধারণ জ্ঞান প্রস্তুতির।
এক বইয়ের এতো উপযোগ নিতে একজন শিক্ষার্থীকে নির্ধারণ করতে হবে-
- কীভাবে বইটি পড়া শুরু করা উচিত?
- কীভাবে সহজে টপিক এবং সালসমূহ মনে রাখা যায়?
যেভাবে বইটি পড়া শুরু করা উচিতঃ
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইটিতে মোট অধ্যায় রয়েছে ১৫টি, এই অধ্যায়সমূহের মধ্যে প্রথম ২টি অধ্যায় ইতিহাস ভিত্তিক, এরপরের ৩টি অধ্যায় ভূগোল, ৪টি পৌরনীতি, ৩টি অর্থনীতি এবং শেষ ৩ টি সমাজবিজ্ঞান ভিত্তিক। শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকের ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ থাকে, কারো ইতিহাসের প্রতি কিংবা কারো ভূগোল/পৌরনীতি/অর্থনীতি/সমাজবিজ্ঞানের প্রতি। সুতরাং একজন আদর্শ শিক্ষার্থী তার আগ্রহের বিষয়গুলো সিরিয়ালি সিলেক্ট করে ,উক্ত টপিক থেকে পড়া শুরু করবে। ব্যক্তিগত আগ্রহ অনুযায়ী অধ্যায় বেছে নিয়ে পড়া শুরু করলে—
- পড়া হবে আনন্দদায়ক।
- মনোযোগ থাকবে স্থির।
- কঠিন বিষয়ও সহজ মনে হবে।
- শিক্ষণ প্রক্রিয়া হবে ধারাবাহিক।
এভাবে শুরু করলে সিলেবাস বড় হলেও পড়া আগের তুলনায় অনেক সহজ মনে হবে।
সহজে টপিক এবং সালসমূহ মনে রাখার কৌশলঃ
ইতিহাস ভিত্তিক অধ্যায়গুলো গল্পের আকারে উপন্যাসের মতো মনে রাখতে হবে। এইজন্য পড়তে হবে এইজন্য পড়ছি- এই মানসিকতা থেকে বেড়িইয়ে এসে জানার আগ্রহে পড়তে হবে। প্রথমে সালের দিকে গুরুত্ব না দিয়ে পটভূমির উপর গুরুত্ব দিতে হবে, পটভূমি মনে থাকলে সাল পড়ে এমনিতেই মাথায় চলে আসবে। অন্যান্য টপিক্সের টার্মগুলো মুখস্থ না করে আগে এর মানে বুঝতে হবে। ভূগোল/পৌরনীতি/অর্থনীতি/সমাজবিজ্ঞানের জটিল বিষয়গুলো সহজ করে খাতায় লিখে নোট করে, একটি টার্মের সাথের অন্য টার্মের পার্থক্য জানতে হবে। পার্থক্য করা শিখে গেলে এমসিকিউ কিংবা সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরদানে তুমি হয়ে উঠবে অপ্রতিরোধ্য।
“বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়” শুধু একটি স্কুলের বই নয়— এটি তোমার নাগরিক চেতনা, সাধারণ জ্ঞান, ভর্তি যুদ্ধ এবং চাকরি প্রস্তুতির ভিত্তি গড়ে দেয়। সঠিক কৌশলে পড়তে পারলে তুমি শুধু পরীক্ষায় ভালো করবে না—বরং নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে প্রতিযোগিতায় অন্যদের চেয়ে এগিয়েও থাকবে।
পরিশেষে, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় আয়ত্ত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত অনুশীলন ও পরীক্ষা দেওয়া। এই লক্ষ্যেই brritto তৈরি করেছে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় শেখার এক নতুন অভিজ্ঞতা, যেখানে রয়েছে এসএসসি পর্যায়ের জন্য সাজানো Learn ও Exam সেকশন। শিক্ষার্থীরা এখানে বিষয়ভিত্তিক ধারণা স্পষ্ট করতে পারবে এবং পরীক্ষার মতো পরিবেশে অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারবে।
এছাড়াও brritto-তে পাওয়া যাবে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের বিগত বছরের বোর্ড প্রশ্ন, ক্যাডেট কলেজ ও দেশের শীর্ষস্থানীয় কলেজগুলোর টেস্ট প্রশ্ন। শুধু একাডেমিক নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির সাধারণ জ্ঞান অংশও অনুশীলনের সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় শেখা এখন মুখস্থের বিষয় নয়—এটি এক অনুপ্রেরণাদায়ক যাত্রা। সহজ, আনন্দময় ও আত্মবিশ্বাসী শেখার এই পথে brritto হোক আমাদের সাফল্যের সঙ্গী।