লাল নীল দীপাবলি : বাংলা সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (প্রথম পর্ব)

বাংলা সাহিত্যের বয়স এক হাজার বছরেরও বেশি। শত শত বছর ধরে হাজারো কবি-সাহিত্যিকেরা আমাদের বাংলা ভাষায় রচনা করেছেন অজস্র কবিতা, গান, নাটক ও গদ্য। কেমন হতো, যদি সংক্ষিপ্ত একটিমাত্র বইয়ের মাধ্যমেই আমরা আমাদের হাজার বছরের সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হতে পারতাম? বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল সব সৃষ্টিগুলোকে চিনিয়ে দেবার উদ্দেশ্যে প্রয়াত ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ […]

লাল নীল দীপাবলি : বাংলা সাহিত্যের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (প্রথম পর্ব)
Feb 3, 2026
1 min read
Bangla Literature

বাংলা সাহিত্যের বয়স এক হাজার বছরেরও বেশি। শত শত বছর ধরে হাজারো কবি-সাহিত্যিকেরা আমাদের বাংলা ভাষায় রচনা করেছেন অজস্র কবিতা, গান, নাটক ও গদ্য। কেমন হতো, যদি সংক্ষিপ্ত একটিমাত্র বইয়ের মাধ্যমেই আমরা আমাদের হাজার বছরের সাহিত্যিক ঐতিহ্যের সাথে পরিচিত হতে পারতাম? বাংলা সাহিত্যের উজ্জ্বল সব সৃষ্টিগুলোকে চিনিয়ে দেবার উদ্দেশ্যে প্রয়াত ভাষাবিজ্ঞানী ও সাহিত্যিক হুমায়ুন আজাদ রচনা করেছিলেন এক অনন্যসাধারণ গ্রন্থ : লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী। ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমি হতে প্রথম প্রকাশিত এ বইটি হুমায়ুন আজাদ লিখেছিলেন মূলতঃ কিশোর-কিশোরীদের কথা ভেবে, কিন্তু গত পাঁচ দশক ধরেই ‘লাল নীল দীপাবলি’ তুমুল জনপ্রিয় সব বয়সী বাঙালি পাঠকের কাছেই।

হুমায়ুন আজাদ রচিত ১৯৯২ সালে প্রকাশিত লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী গ্রন্থের প্রথম সংস্করণের প্রচ্ছদ। (উৎস : উইকিপিডিয়া)

বইটি সাতাশটি ছোট ছোট অধ্যায়ে বিভক্ত। প্রথম তিনটি অধ্যায়ে বাঙালি জাতি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের যুগবিভাগ নিয়ে সরল কিন্তু সুললিত ভাষায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হয়েছে। এরপরই প্রাচীন যুগের বাংলা সাহিত্যের একমাত্র নিদর্শন ‘চর্যাপদ’ এবং এর কবিগণ ও কাব্যের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ করান লেখক। চর্যাপদকে তিনি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সাথে অভিহিত করেন ‘বাংলা সাহিত্যের প্রথম প্রদীপ’ বলে। চর্যাপদে প্রাচীন যুগের বাংলা ভাষা কেমন ছিলো, তার নমুনার পাশাপাশি আমরা দেখতে পাই সেসময়কার মানুষ ও সমাজ-জীবনের খণ্ড খণ্ড চিত্র। চর্যাপদের পর প্রায় দেড় শতাব্দী ধরে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সাহিত্যকর্ম সৃষ্টি হয়নি, কিন্তু এরপর একে একে জ্বলে ওঠে মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি, আর অনুবাদ-কাব্যের আলো। 

মধ্যযুগের বাংলা ভাষার রূপের সাথে আমরা পরিচিত হই ‘লাল নীল দীপাবলি’র অধ্যায়গুলোতে ছড়িয়ে থাকা কবিতার নমুনা হতে। মধ্যযুগ যে কাব্যগুলোর জন্য স্মরণীয় হয়ে আছে তা হলো মঙ্গলকাব্য, যেগুলো ছিলো পুরাণের দেব-দেবী নির্ভর কাহিনী। হরি দত্ত, মুকুন্দরাম, ভারতচন্দ্র এবং আরও অনেক কবির হাতে রচিত হয়েছিলো চণ্ডীমঙ্গল, মনসামঙ্গল, অন্নদামঙ্গল ইত্যাদি, যা সেসময়কার মানুষের জীবন ও সমাজকে বোঝার জন্য অবশ্যপাঠ্য। কিন্তু হুমায়ুন আজাদের দৃষ্টিতে সাহিত্যমানের বিচারে মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ ফসল হলো বৈষ্ণব পদাবলি। তিনি মঙ্গলকাব্য থেকে বৈষ্ণব কবিতার উত্তরণকে তুলনা করেছেন ‘একটি গুমোট স্বল্পালোকিত দালানের ভেতর থেকে উজ্জ্বল সবুজ দক্ষিণের বাতাসে মাতাল বনভূমিতে আসা’ হিসেবে। চতুর্দশ শতক থেকে বৈষ্ণব কবিতা লেখার সূচনা, আর এসব কাব্যের মূল চরিত্র ছিলো রাধা ও কৃষ্ণ। রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে অমর করে তুলেছেন কবি বিদ্যাপতি, জ্ঞানদাস, চণ্ডীদাস, গোবিন্দদাস এবং আরও অনেকে। মধ্যযুগের প্রথম সাহিত্যিক নিদর্শনও ছিলো ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামক একটি দীর্ঘ অসাধারণ কাব্য। অন্যদিকে এযুগে রামায়ণ ও মহাভারতও বাংলায় অনূদিত হয়, আর এ দুরুহ কাজ সম্পন্ন হয় যথাক্রমে কৃত্তিবাস ও কাশীরাম দাসের হাতে। এই পৌরাণিক মহাকাব্যদুটিকে বাংলার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের হাতে তাদের মাতৃভাষায় রূপান্তর করে তুলে দেন কৃত্তিবাস ও কাশীরাম দাস, তাই হুমায়ুন আজাদ এই দুইজনকে অভিহিত করেন ‘দেবতার মতো দুইজন অনুবাদক’ হিসেবে। এসময়ে আমরা আরও দেখতে পাই, কেবলমাত্র ধর্ম ও পারলৌকিক জীবনভিত্তিক রচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা প্রাচীন ও আদি-মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যতে কীভাবে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের সুখদুঃখ চাওয়াপাওয়ার কথাও ফুটে উঠতে শুরু করেছিলো। ধর্মগুরু শ্রীচৈতন্যের প্রচারিত শিক্ষার প্রভাব পড়েছিলো বৈষ্ণব পদাবলি, বৈষ্ণবজীবনী ও দর্শনগ্রন্থ রচনাতে। হুমায়ূন আজাদের ভাষায়— 

“বৈষ্ণব জীবনীসাহিত্যও মধ্যযুগের মূল্যবান সৃষ্টি, কেননা যে-মধ্যযুগ কেটেছে দেবতাদের গুণগানে, সেখানে বৈষ্ণবরা বসিয়েছিলেন মানুষকে। দেবতার বদলে মানুষের প্রাধান্য বৈষ্ণব জীবনীসাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য।” 

অন্যদিকে, তেরো শতকের গোড়ার দিকে মুসলমানদের বাংলা বিজয়ের থেকে বাংলা সাহিত্যের গতিপথে আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন। এ প্রসঙ্গে হুমায়ুন আজাদ লিখেছেন – 

“মুসলমানদের দেবতা নেই। তাই তাঁরা লেখেন মানুষের গল্প। এ-গল্প কখনো ইউসুফ-জুলেখার, কখনো লাইলি-মজনুর। এরা দেবতা নয়, মানুষ, যদিও অবাস্তব। আধুনিক কালে মানুষই সাহিত্যের মূল বিষয়।… নানা রকমের কবিতা লিখেছেন মুসলমান কবিরা। তাঁরা লিখেছেন কাহিনীকাব্য, লিখেছেন ধর্মীয় কাব্য। তাঁরা লিখেছেন ইতিহাস ও কল্পনা মিলিয়োমিশিয়ে বড়োবড়ো কাব্য। লিখেছেন শোককবিতা, লিখেছেন সঙ্গীতশাস্ত্র, জ্যোতিষশাস্ত্র সম্বন্ধীয় বই। সবই কবিতায় বা পদ্যে।”

 তিনি মুসলমানদের মানুষকেন্দ্রিক সাহিত্যচর্চা ও বাংলা ভাষায় বৈচিত্র্যময় রচনা সৃষ্টির বিষয়ে আলোকপাত করে ‘লাল নীল দীপাবলি’-তে দীর্ঘ একটি অধ্যায় যুক্ত করেছেন। মধ্যযুগের মুসলমান সাহিত্যিকদের সম্পর্কে তার মূল্যায়ন হলো— 

“…সৈয়দ সুলতান, আবদুল হাকিম, কাজি দৌলত এবং আলাওল বিখ্যাত কবি। তাঁরা সবাই মিলে বাঙলা কবিতাকে এমন সৌন্দর্য দান করেছিলেন, যা তাঁদের সহগামী হিন্দু কবিদের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। এর ফলে বাঙলা সাহিত্য মধ্যযুগ থেকে হয়ে ওঠে হিন্দু ও মুসলমান উভয়ের সম্পত্তি। তারা উভয়ে মিলে বুনে যেতে থাকে কাব্যলক্ষ্মীর শাড়ির পাড়।” 

মুসলমান সাহিত্যিকরা কুরআনসহ অন্যান্য ধর্মীয় গ্রন্থে উল্লেখ থাকা কাহিনী অবলম্বন করে অনেক সাহিত্য সৃষ্টি করেছেন। যেমন, ইউসুফ-জুলেখার কাহিনী সংক্ষিপ্ত আকারে কুরআন ও বাইবেলে লিখিত রয়েছে। কিন্তু মুসলমান কবি শাহ মুহম্মদ সগীর এ কাহিনীর মূলভাবটুকুর সাথে নিজের কল্পনাশক্তি আর সৃজনশীলতার সম্মিলনে দীর্ঘ কাব্য রচনা করেছেন, ধর্মগ্রন্থে থাকা কাহিনীকাঠামোকে তিনি পরম যত্নে ঢেকে দিয়েছেন কাব্যপ্রতিভার ফুলে ফুলে। এছাড়াও আরব-ইরানসহ নানান দেশের কাহিনীকে তারা বাংলায় রূপান্তর করেছেন, আর তাদের সে অনুবাদেও ছিলো নিজস্বতার ছাপ। অনুবাদের সময় তারা কাহিনীর কোনো অংশ বদলে দিয়েছেন, কোনো অংশ বাদ দিয়েছেন, আবার কখনও কখনও নিজের মতো করেই পুনর্লিখন করেছেন গল্প। হুমায়ুন আজাদের ভাষায়, মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের কলমে মরুভূমির বালুকারাশি হয়ে উঠেছে স্নিগ্ধ সজল সবুজ বাংলার মাঠ, আর আরবের পাত্রপাত্রীরা হয়ে উঠেছে আমাদের বাংলার আলোহাওয়াজলে বড় হওয়া তরুণতরুণী। 

মধ্যযুগে বাংলা ভাষায় নতুন ধরনের সাহিত্য সৃজনের সমান্তরালেই চলছিলো লোকসাহিত্যের বিকাশ। ধর্মাচারী সিদ্ধা, কুলীন ব্রাহ্মণ, রাজদরবারের অনুগ্রহপুষ্ট সভাকবি প্রভৃতি রচয়িতাদের বাইরেও বাংলা সাহিত্য সৃষ্টির দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। বাংলার গ্রামাঞ্চলের মানুষের রচিত গীতিকা, ছড়া, রূপকথা, প্রবাদ-প্রবচন, ধাঁধাঁ এবং আরও অনেক কিছুতে পরিপুষ্ট বাংলা লোকসাহিত্য। ‘লাল নীল দীপাবলি’-র সংক্ষিপ্ত একটি অধ্যায়ে এসম্পর্কেও আলোচনা করেছেন হুমায়ুন আজাদ, যা আমাদেরকে মাতৃভাষার সাহিত্যিক উত্তরাধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। চন্দ্রকুমার দে, দীনেশচন্দ্র সেন, দক্ষিণারঞ্জন মিত্রমজুমদারসহ আরও অনেকের প্রচেষ্টায় গণমানুষের মুখে মুখে ফেরা বাংলার লোকসাহিত্য গ্রন্থাকারে সংগ্রহীত ও সংরক্ষিত হয়েছে, আর আমরা পেয়েছি এক অমূল্য সাহিত্যের রত্নভাণ্ডার।

১৭৫৭ সালে বাংলা তার স্বাধীনতা হারায় ইংরেজ বণিক ও উপনিবেশীদের কাছে, আর মধ্যযুগের শেষ বড় কবি ভারতচন্দ্র রায়গুণাকরের মৃত্যু হয় ১৭৬০-এ। নতুন শাসকশ্রেণির উত্থান ও সমাজ-রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের ঢেউ বাংলা সাহিত্যের বিকাশকেও বিপর্যস্ত করে তোলে। ইংরেজদের ক্ষমতা দখলের পর প্রায় সত্তর বছর ধরে বাংলা সাহিত্যে বড় মাপের কোনো কবি-সাহিত্যিকের অভ্যুদয় ঘটেনি। হুমায়ুন আজাদের মতে, ক্ষমতার পুনর্বিন্যাসে নতুন ধনী হয়ে ওঠা শ্রেণিটির সাহিত্যবোধ ছিলো স্থূল, আর তাদের মনোরঞ্জনের জন্য সৃষ্ট সেকালের সাহিত্যও ছিলো নিম্নরুচির। নিম্নরুচির প্রচুর কবিগান ও শায়ের রচিত হবার জন্য পরিচিত এসময়কালকে হুমায়ুন আজাদ অভিহিত করেছেন ‘দ্বিতীয় অন্ধকার’ নামে। তার ভাষায়— 

কবিওয়ালা ও শায়েররা মধ্যযুগের শেষপ্রান্তে উদ্ভূত হয়েছিলেন। তাঁরা কোনো অসাধারণ সৃষ্টি রেখে যেতে পারেন নি পরবর্তীকালের জন্য। এর জন্যে তাঁদের কোনো দোষ নেই। দোষ যদি কিছু থাকে, তবে তা দেশের ও কালের। দেশ গিয়েছিলো নষ্ট হয়ে, কাল গিয়েছিলো পতিত হয়ে। নষ্ট কালে অন্ধকারাচ্ছন্ন দেশে তারা প্রদীপ জ্বালাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সে-প্রদীপ জ্বলতে চায় নি উজ্জ্বলভাবে। তাই এ-সময়ে আঁধার ছড়িয়ে পড়েছে সাহিত্যের আঙিনায়। তবু তো কিছুটা আলো ছিলো; আলো জ্বেলেছিলেন এ-কবিরা, তাই তারা স্মরণীয়। 

মধ্যযুগের শেষপ্রান্তে এসে বাংলা সাহিত্যের স্রোতে যে সাময়িক ভাটা পড়েছিলো, তা ধীরেধীরে আবার স্রোতশীলা হয়ে উঠতে থাকে উনিশ শতকের শুরুতে এসে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাংলা সাহিত্যের নিবুনিবু প্রদীপ আবারও উজ্জ্বল হয়ে উঠতে থাকে, বাঙালির মাতৃভাষাকে উদ্ভাসিত করে তোলে ‘অভিনব আলোর ঝলকে’। ‘লাল নীল দীপাবলি’ বইটির দ্বিতীয়ার্ধে বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগের কথা সবিস্তারে লিখেছেন হুমায়ুন আজাদ, যার কথা থাকবে এই লেখার দ্বিতীয় ও শেষ পর্বে। 

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন ও মধ্যযুগের ইতিহাস সম্পর্কে সংক্ষেপে একটি ধারণা পাবার জন্য ‘লাল নীল দীপাবলি’ বইটি চমৎকার একটি পাঠ্য। সহজ অথচ কাব্যিক ভাষায় রচিত এ বইটি যেকোনো বয়সের পাঠককেই আমাদের সাহিত্যিক উত্তরাধিকারের সাথে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিতে পারবে। যারা বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার অংশগ্রহণ করবে, তাদের সবার জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পাঠ্যবই হিসেবে স্বীকৃত। আর বিগত বিভিন্ন পরীক্ষার বাংলা সাহিত্যসহ সকল বিষয়ের প্রশ্ন, সমাধান ও ব্যাখ্যা পেতে এবং পাঠ্যবিষয়গুলোর ওপর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে ইচ্ছুক যারা, তাদের জন্য রয়েছে  brritto অ্যাপ! brritto অ্যাপের Learn, Test, Live Exam, Doubt Solving-সহ নানান ফিচারের মাধ্যমে আপনার পড়াশোনা হয়ে উঠবে সহজ ও দ্রুততর, এবং সাফল্যের পথ হবে আরও মসৃণ ও সুগম। তাই আর দেরি না করে এখনই brritto-র সাথে আপনার যাত্রা শুরু করুন, আমরা আছি আপনার পাশে, যেকোনো প্রয়োজনে।