৫০ তম বিসিএস লিখিত : স্বল্প সময়ে প্রস্তুতি ও উত্তর করার কৌশল

৫০ তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হয়েছে। পিএসসির পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রস্তুতির জন্যে সময় খুবই কম। হাতেগোনা ৬০ দিনের মতো সময় আছে। নতুনদের জন্যে এই বিসিএস এ নিজেদের অবস্থান তৈরি করা শুধু কঠিন নয়, ক্ষেত্রবিশেষে অসম্ভবও বটে। তাই এই স্বল্প সময়ে যিনি নার্ভ ধরে রাখতে পারবেন এবং কৌশলী প্রস্তুতি নিবেন, তিনি প্রতিযোগিতার মাঠে […]

৫০ তম বিসিএস লিখিত : স্বল্প সময়ে প্রস্তুতি ও উত্তর করার কৌশল
Feb 3, 2026
1 min read
Job Recruitment

৫০ তম বিসিএস এর লিখিত পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হয়েছে। পিএসসির পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী প্রস্তুতির জন্যে সময় খুবই কম। হাতেগোনা ৬০ দিনের মতো সময় আছে।

নতুনদের জন্যে এই বিসিএস এ নিজেদের অবস্থান তৈরি করা শুধু কঠিন নয়, ক্ষেত্রবিশেষে অসম্ভবও বটে। তাই এই স্বল্প সময়ে যিনি নার্ভ ধরে রাখতে পারবেন এবং কৌশলী প্রস্তুতি নিবেন, তিনি প্রতিযোগিতার মাঠে টিকে থাকবেন। 

৫০তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় শেষ সময়ে করণীয় বিষয়ে brritto টিমের পরামর্শ :

১. প্রথমত, সময় কম বলে হা-হুতাশ করা যাবে না। অনেক সময়েই প্রার্থীরা হা-হুতাশ করে সময় নষ্ট করে ফেলে। এতে চাপ বাড়বে। তাই বাস্তবতা মেনে নিন, এবং কম সময়ে কিভাবে গোছানো প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব সে বিষয়ে মনোযোগী হোন।

২. রুটিন মেনে চলুন। স্বল্প সময়তে কোন কোন বিষয় না দেখলেই নয় সে বিষয়গুলোর নাম লিখে রাখুন। সময় ভাগ করে দিন। সেক্ষেত্রে গণিত ও ইংরেজির জন্যে প্রতিদিন সময় বরাদ্দ রাখতে পারেন। 

৩. লিখিত পরীক্ষায় গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি এই ৩ বিষয়ের ভালো নাম্বার আপনাকে অন্যান্য প্রার্থীদের থেকে এগিয়ে রাখতে পারে। এগুলোর টপিকও প্রায়ই অপরিবর্তনীয় থাকে। ইংরেজিতে রচনা নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। আপনার বিশ্লেষণাত্মক মনোভাব আর সঠিক ও নির্ভুল ইংরেজি বাক্য গঠনের পারদর্শিতা আপনাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। কারও যদি ফ্রি হ্যান্ডরাইটিং এ সমস্যা থাকে, নিয়মিত পত্রিকা থেকে অনুবাদ করতে পারেন, কিংবা ইউটিউবেও পত্রিকা অনুবাদ করার অনেক চ্যানেল আছে যা ফলো করে দুর্বলতা দূর করতে পারেন। অনুবাদের কলাকৌশল জানা থাকলে ফ্রিহ্যান্ডরাইটিং অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। কম্প্রিহেনশন অংশে ভালো করতে ৪৭-৪০ বিসিএস এর ইংরেজি লিখিত প্রশ্নের সমাধান করতে পারেন। প্রশ্নের পরিবর্তন ও উত্তর করার আইডিয়া পেয়ে যাবেন।

৪. বাংলাভীতি বিসিএস লিখিত প্রার্থীদের একটি সাধারণ সমস্যা, অথচ এখানে আপনি আপনার কাঙ্ক্ষিত নম্বরের চেয়ে  বেশি নম্বরও তুলতে পারেন। ব্যাকরণ অংশের জন্যে প্রিভিয়াস প্রশ্ন অনুশীলন করলেই অর্ধেকেরও বেশি প্রস্তুতি হয়ে যায়। এরপর বাগধারা, বানানশুদ্ধি, বাক্যশুদ্ধি নির্ভুল উত্তরে পুরো নম্বরই তোলা যায়। ব্যাকরণের এ অংশে brritto অ্যাপ থেকে ব্যাকরণ অংশের ব্যাখ্যা কাজে দিতে পারে।  সাহিত্য অংশে ভালো করতে প্রিলিমিনারির প্রস্তুতি আপনাকে বেশ কাজে দিবে। তারপরেও এ অংশে ভালো সময় বরাদ্দ রাখুন, কেননা সাহিত্য অংশের সিলেবাস আসলেই বড়। গুরুত্বপূর্ণ লেখক ও গুরুত্বপূর্ণ লেখনী, সারবস্তু, চরিত্র সম্পর্কে ধারণা রাখতে পারেন। সাহিত্য অংশের প্রস্তুতি গ্রন্থ সমালোচনার সাথে মিলিয়ে নিন। এতে করে গ্রন্থ সমালোচনা বা সাহিত্যের প্রশ্নোত্তর দুটোই উত্তর করার সক্ষমতা অর্জিত হবে। এছাড়াও ভাব সম্প্রসারণ, কাল্পনিক সংলাপ, পত্র দরখাস্ত, সারাংশ, সারমর্ম ইত্যাদি লেখার কৌশল রপ্ত করে যাবেন। এতে সিলেবাস কমে আসবে। মনে রাখবেন পরীক্ষায় আপনার কী কমন আসলো না আসলো তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল আপনার সফলতা নির্ভর করবে আপনার লেখার ভাষাশৈলী, নির্ভুল বানান, যুক্তি উপস্থাপন এবং আপনার পরিবশনা কতটা সুন্দর হল তার উপর।

৫. নিয়মিত গণিত চর্চার কোন বিকল্প নেই। অনেকেই আছেন গণিতে ভালো করেন, তাই নিজের উপর আত্মবিশ্বাসে থেকে নিয়মিত গণিত চার্চা করেন না। নিয়মিত চর্চার অভাবে ফাইনালে যদি ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ভুলের জন্যে ২/৪ টি অংক ভুল হয়; আপনি প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যেতে পারেন। সর্বশেষ বিসিএস লিখিত প্রশ্ন বিশ্লেষণে দেখা যায় যে পিএসসি নবম দশম শ্রেণীর গণিতে ভালো ফোকাস করছে। যাদের হাতে সময় একেবারেই কম তারা শুধু মাধ্যমিকের সাধারণ গণিত অংশের ভালো প্রস্তুতি নিতে পারেন।

৬. মানসিক দক্ষতা অংশে ভালো করতে brritto এপের Learn and Test এ প্রস্তুতি গ্রহণ করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রিভিয়াস সকল প্রিলিমিনারি ও লিখিত মানসিক দক্ষতার সকল প্রশ্ন শলভ করলে ৭০-৮০ শতাংশ প্রস্তুতি হয়ে যাবে। ৩০ দিনের ১ বা ২ দিন এখানে ব্যয় করতে পারেন যা আপনাকে পূর্ণ নম্বর তুলতে সহযোগিতা করবে।

৭. বিজ্ঞান অংশে আগে থেকেই যারা আগে থেকেই বিজ্ঞানের ছাত্র তারা একটু হলেও এগিয়ে থাকেন। তবে সাধারণ বিজ্ঞানের টপিকের অধিকাংশই মাধ্যমিক বিজ্ঞান অংশের সমতুল্য। তাই ঘাবড়ে যাওয়ার কোন কারণ নেই। বিজ্ঞানের উত্তর করার জন্যে সময় থাকে খুবই সীমিত। বিজ্ঞান বিষয়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সময় অনুযায়ী উত্তর শেষ করা।  তাই পড়ার সময়েই উত্তর সংক্ষিপ্ত করে নিন। কেননা ২.৫-৩ মার্কের উত্তরের জন্যে সর্বোচ্চ ৩-৪ মিনিট পাবেন। তাই টু দ্য পয়েন্ট এ উত্তরের পাশাপাশি চিত্র সংযুক্তি দিতে পারেন। সহজে উত্তর করার জন্যে এবং নিরীক্ষককে আকর্ষিত করার জন্যে এটা ভালো পন্থা। তবে চিত্র না পারলে অন্তত প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্লক ডায়াগ্রামও দিতে পারেন। বিজ্ঞানের প্রস্তুতি গ্রহণের সময় ঘড়ি ধরে দ্রুত চিত্র ও ব্লক ডায়াগ্রাম অঙ্কন অনুশীলন করতে পারেন।

৮. এবার আসি বাংলাদেশ বিষয়াবলী প্রস্তুতির আলোচনায়। প্রার্থীরা প্রায়ই অধিকাংশ সময় ব্যয় করে সাধারণ জ্ঞানের বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীর প্রস্তুতি নিতেই।

ক) উত্তরপত্রের সিকোয়েন্স :

চেষ্টা করবেন প্রশ্নের সিরিয়াল অনুযায়ী উত্তর করার। যেহেতু রাউন্ড টেবিলে খাতা কাটবে, সুতরাং উত্তরের ধারাবাহিকতা না থাকাটা পরীক্ষকের বিরক্তির উদ্রেক ঘটাতে পারে। ৫০ তম লিখিত থেকে প্রশ্নেই নির্দেশনা দেয়া থাকতে পারে। নির্দেশনা না থাকলেও সিকোয়েন্স অনুযায়ী লিখলে খাতা দেখা, নম্বর তোলাতে আপনার অর্জিত নম্বর মিস হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। 

খ) খাতা মূল্যায়ন প্রসঙ্গ :

৪৬ তম বিসিএস থেকে যেভাবে রাউন্ড টেবিল খাতা মূল্যায়ন শুরু হয়েছে, ধরে নেওয়া যায় যে ৫০ লিখিতের প্রশ্নও ৪৫, ৪৬ ও ৪৭ এর আদলেই হবে। অর্থাৎ ২০ নম্বরের প্রশ্নের আধিক্য থাকবে বেশি। তাই, বাংলাদেশ বিষয়ে ভালো নম্বর তুলতে প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের মধ্যে একটা পরিমিতিবোধ থাকা প্রয়োজন। কোন উত্তর অধিক ও কোন উত্তর অতি সংক্ষেপে লেখা ভালো নম্বর পাওয়া শিক্ষার্থীর খাতার বৈশিষ্ট্য  হবে না। একজন নিরীক্ষক কেবল সকল খাতার ওই একই উত্তরই মূল্যায়ন করবেন। তাই সকল একক উত্তরের প্রতিযোগিতা হবে।     

গ) সময় ভাগ করে নেওয়া :

বাংলাদেশ বিষয়াবলীতে ভালো করতে আগে নিজের পারদর্শীতা সম্পর্কে অবগত থাকতে হবে। যেমন আপনার প্রতি পৃষ্ঠা (লিগ্যাল সাইজ) লিখতে কত সময় লাগে, ২০ নম্বরের জন্যে আপনি সর্বোচ্চ কত পৃষ্ঠা লিখতে পারবেন ইত্যাদি। ২০০ নম্বরের এ পরীক্ষায় প্রতি নম্বরের জন্য আপনি লেখার সময় পাবেন ১ মিনিট ১২ সেকেন্ডের মতো। তাই মোট সময়ের অনুপাতে কত মার্কের প্রশ্নের জন্যে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কত পেইজ লিখবেন আগেই ভাগ করে নিন।

উল্লেখ্য, অযথা পৃষ্ঠা ভরাট করে লেখার মানসিকতা দূর করুন। যতটুকু যৌক্তিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ ঠিক ততটুকু লিখুন।

ঘ) উপস্থাপনশৈলী :

লেখার উপস্থাপনশৈলী আপনার লেখাকে অন্যান্যদের থেকে পৃথক করবে আর ভালো নম্বর তুলতে সহযোগিতা করবে। এক্ষেত্রে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে মানচিত্র, গ্রাফ, চিত্র, পাইচার্ট, ডাটা, ইত্যাদির ব্যবহার আপনার লেখার গুণগত মান বাড়াতে পারে। প্রয়োজন অনুসারে নীল কালির ব্যবহার করা যেতে পারে।

৯. আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী অংশের উত্তর করার ক্ষেত্রে কিছু কথাঃ  

ক) কনসেপচুয়াল অংশ :

আন্তর্জাতিক অংশে কনসেপচুয়াল অংশে নিরেট সংজ্ঞা , প্রামাণ্য সংজ্ঞা সাথে সমসাময়িক বাস্তব উদাহরণ সন্নিবেশ করে উত্তর করতে পারেন। এতে সংক্ষিপ্ত এই উত্তরে সর্বোচ্চ নম্বর তোলা সম্ভব হতে পারে। তবে অলঙ্কারস্বরূপ কোন তাত্ত্বিকের তত্ত্ব প্রাসঙ্গিক হয়ে থাকলে তা উল্লেখ করবেন এটি অধিক নম্বর পেতে সহায়তা করবে।

খ) ইম্পেরিক্যাল ও প্রব্লেম সলভিং অংশ :

এই দুই অংশের প্রস্তুতিতে আপনার নিয়মিত পত্রিকা পড়ার ফল অনুধাবন করতে পারবেন। সোর্স উল্লেখ করে ইম্পেরিক্যালের প্রশ্নের উত্তর করতে পারেন। ভিন্ন ভিন্ন ডাইমেনশান থেকে চিন্তা করে উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে পারেন। সমস্যা সমাধান অংশের চিন্তন দক্ষতামূলক সমস্যা যথাসম্ভব আন্তর্জাতিক আইন দ্বারা সিদ্ধ উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করবেন এবং অবশ্যই লেখার কৌশল মেনে উপস্থাপন করবেন।

১০. বিসিএস লিখিত পরীক্ষার জন্যে পরিমিত ঘুম ও সুস্থ থাকা সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি। আপনার চিন্তন দক্ষতা, লেখনশৈলী, যৌক্তিক ও শৈল্পিক উপস্থাপনা, ভাষাশৈলী ইত্যাদি আপনাকে অন্যান্যদের চেয়ে অনন্য করে তুলবে। তাই সবকিছু প্রস্তুতির উপর নির্ভর করে না, কিছু বিষয় আপনার অভ্যন্তরীণ প্রজ্ঞা হতে উৎসারিত হবে। নিজেকে শান্ত রাখুন, প্রস্তুতি নিন বাস্তবসম্মত, সুস্থ থাকুন। brritto পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের জন্যে রইলো শুভকামনা।